মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

সৈয়দপুরে সাংবাদিকের উপর হামাল-মামলা ও বিকৃত পোষ্টার টাঙ্গিয়ে হেয়প্রতিপন্ন

জি.এম জয়
  • সময় শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২
  • ৪২ বার পঠিত

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ব্রাকবোন ড্রেন সৈয়দপুর পৌরসভা নিজেদের দাবী করে স্থায়ী সবজি বাজার নির্মাণের সংবাদ স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সাংবাদিক মোতালেব হোসেন হকের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে ফটোশপ সম্পাদনের মাধ্যমে তার ফেসবুক প্রোফাইল ছবিতে জুতার মালা পড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় টাঙ্গিয়ে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। এতে সাংবাদিক ও সুধী মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সরেজমিন জানা যায়, সাংবাদিক মোতালেব হোসেন হককে জুতার মালা পরানো বিকৃত পোষ্টারটি এখন সারা শহরে। রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক দাবানল-এর বিশেষ প্রতিবেদক তিনি। ফটোশপে সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা একটি ছবিতে জুতার মালা সংযুক্ত করে রাস্তায় রাস্তায় প্রদর্শণ করা হয়েছে।

সাহস নিয়ে সত্য বলেন, তাই ‘হক সাংবাদিক’ নামেই পরিচিতি অবাঙ্গালী অধ্যুষিত শহর সৈয়দপুরে। একজন সংবাদকর্মীর জীবনে এই পরিনাম মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীদের অনেকে। এরআগে, রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলে নিয়ে পৌরসভার সবজি মার্কেট নির্মাণ নিয়ে রিপোর্ট করার পরিণামে গত শুক্রবার (৮ এপ্রিল ) রাত ১০.৩৫ মিনিটে ( সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী) ওই কাজের ঠিকাদার ও তার বাহিনীর হামলার শিকার হবার পর এখন তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।

সাংবাদিকের উপর নিপীড়নে মদদ দেয়ার অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিনের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্য সভাসমাবেশ করে সাংবাদিকের হাতপা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকী দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অবাঙ্গালী অধ্যুষিত নীলফামারীর রেলের শহর সৈয়দপুরে ১৯৮৪ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভূমি প্রশাসনের মাধ্যমে ২৫.৭৫ একর জমি লিজ দেয় সৈয়দপুর পৌরসভাকে। উল্লেখ, রেলের বাজার আছে সেই জমিতে শুধু উন্নয়ন কাজে অনুমতি দিতে পারবে পৌরসভা। এছাড়া জমি, রাস্তা-ঘাট, বাজার, মসজিদ পৌরসভার নিকট হস্তান্তর করে। এরপর থেকেই শুরু হয় রেলের জমি দখল করে বহুতল ভবন, বাজার, মার্কেট, আবাসিক হোটেল, বাসা নির্মাণ।

এসব দখলদার ভূমিস্যুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে রেল কর্তৃপক্ষের। ফলে গত ১৪ই এপ্রিল ২০২২ রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হুসাইন এর উপস্থিতিতে রেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুজ্জামান সৈয়দপুর আধুনিক পৌর সবজি বাজারের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নিদের্শ দেন। এ রূপ কর্মকান্ডে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে পৌরসভার কয়েকজন জনপ্রতিনিধিসহ ভূমিদস্যুরা সংবাদ পরিবেশনকারী সাংবাদিক মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে শহরে শাস্তির দাবী চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

অপরদিকে সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় জুতার মালা পরিহিত মোতালেব হোসেনের ছবির পোস্টার টাঙ্গিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল করে দেয়।

ঘটনা প্রত্যাক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মূলত সরকারী দল আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরোধের বলি মোতালেবও একই দলের নেতা। রেলের লোহা চুরি, জমি দখল নিয়ে সংবাদ প্রচার করায় একসময়ে রেলের খালাসী বর্তমান সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোকছেদুল মোমিনের সাথে সাংবাদিক মোতালেব হোসেন হকের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসতেছে। একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ করায় তার উপর হামলা-মামলা হয়েছে। এছাড়াও তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা চাঁদাবাজ সাংবাদিক বলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গলায় জুতার মালা দেয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না সৈয়দপুরের মানুষ। একজন সৎ সাংবাদিক হিসেবে মোতালেব হোসেন হক অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যদি তাকে হুমকি-ধামকি, হামলা-মামলা শিকার হতে হয় সেটা সাংবাদিক সমাজ এবং রাজনৈতিকমহলকে হেয়প্রতিপন্ন করা।

এ বিষয়ে হামলা-মামলার শিকার ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোতালেব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে রেলের লোহা চুরি, জমি দখলসহ সৈয়দপুর পৌরসভা রেলের ব্যাকবোন দখল করে স্থায়ী মার্কেট নির্মাণ করছে। যা আমি ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। ফলে রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ মার্কেট নির্মাণ বন্ধ করে দিলে স্থানীয় সুবিধাভোগী অসৎ ব্যবসায়ী ভূমিদস্যু ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার যোগসাজসে আমার উপর হামলা চালানো হয়। এবিষয়ে ঘটনার পরের দিন থানায় মামলা দিলে, থানা মামলা না নেয়ায় কোর্টে মামলা দায়ের করি। আর সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার বিষয়টি আইনী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরও বলেন, আমাকে হেয় করার জন্য আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে আমার হাতপা ভেঙে দেয়াসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন। আমি বাসা থেকে বের হতে পারছি না। বর্তমানে আমি আমার পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য চাইলে একাধিকবার সময় দিলেও শেষ পর্যন্ত কোন বক্তব্য দেননি সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোকছেদুল মোমিন।

সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মহসীন হক মহসীন বলেন, সাংবাদিক মোতালেব হোসেন হক, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ করেছে, সেটা যদি মিথ্যা হয় তাহলে প্রতিবাদ জানাবে কিংবা আইসিটি মামলা হবে। কিন্তু কোন যাছাইবাচাই না কওে তার উপর যে হামলা হলো সেটা আমরা ভাল চোখে দেখছি না। হামলার পরপরই আমরা সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ তৎক্ষণাত একটি প্রতিবাদ মিছিল করি। এই প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে আমরা হামলাকারীদের জানান দিয়েছি যে আমরা রাজপথে আছি। এই হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্দমূলক শাস্তির দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের গলায় জুতার মালা পড়িয়ে পোষ্টার লাগানোসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া খুবই দুঃখজনক এবং খারাপ নজির স্থাপন করলো। জুতার মালা কেন পড়াবে, কি অপরাধ করেছে সে! সে তো কোন দোষী সাববস্ত হয় নাই। যারা এমনটা করেছে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুজ্জামান ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হুসাইন’র সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে, এ ঘটনায় তারা কেউই মন্তব্য কতে রাজি হননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102