মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৭:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

৪৫ দিন পর রমেকে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সময় রবিবার, ২৩ মে, ২০২১
  • ৩৪৯ বার পঠিত

টানা ৪৫ দিন বন্ধ থাকার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে শুরু হয়েছে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম। শনিবার (২২ মে) এক আমেরিকান প্রবাসী নারীর আর্থিক অনুদানে বিকল হয়ে পড়ে থাকা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার) দুটি মেরামত করা হয়। এরপর থেকে সচল হয়ে উঠে হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট।

রমেক হাসপাতালে গত ৮ এপ্রিল থেকে পানি শোধনাগার মেশিন নষ্ট হওয়ার কারণে কিডনী বিভাগে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এতে রংপুর বিভাগের আট জেলার কিডনি রোগে আক্রান্তরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। দেড় মাস ধরে ডায়ালাইসিস করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে রোগীদের।

জানা গেছে, হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে পানি শোধনাগার প্লান্ট এবং বেশ কয়েকটি মেশিন নষ্ট হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। মাঝে মাঝেই দুটি ডায়ালাইসিস মেশিন বিকল হয়ে থাকে। এ মেশিন দুটো মেরামত করতে ঢাকা থেকে প্রকৌশলীরা করোনা পরিস্থিতির কারণে আসতে পারেননি। এতে রোগীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

হাসপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনী) বিভাগের প্রধান মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ২৬টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মধ্যে সার্বক্ষণিক ১২-১৪টি যন্ত্র চালু থাকে। তবে দুটি পানি শোধনাগার মেশিনের একটি দীর্ঘদির ধরে নষ্ট থাকে। অপরটিও গত দেড়মাস আগে পুরোপরি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে কিডনী রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ হয়। এ নিয়ে হাসপাতাল পরিচালকসহ বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরে আমেরিকান প্রবাসী সৈয়দা আফরোজা বিউটি নামে এক নারীর আর্থিক অনুদানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার) দুটি মেরামত করা হয়।

কিডনী ওয়ার্ডের ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান জানান, এই ওয়ার্ডে ডায়ালাইসিস মেশিন আগে ছিল ৩০টি, এখন ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাকিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। তারপরও রোগীদের সেবা দেওয়া চলছিল। কিন্তু দুটো মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় টানা ৪৫ দিন ডায়ালাইসিস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ডায়ালাইসিস করতে না পেরে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

নেফ্রোলজি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস হয়ে আসছিল। প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিনজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস হয়। প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ হয় ৪০০ টাকা। কিন্তু বাইরে ডায়ালাইসিস করাতে গেলে ৩ হাজার টাকার বেশি লাগছে। প্রতি মাসে রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগ ৪ লাখ টাকারও বেশি আয় করে থাকে। মাত্র ৭ লাখ টাকা খরচ করে নষ্ট মেশিন দুটি সচল করা সম্ভব ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ আর উদাসীনতার কারণে তা সচল করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম নুরুন্নবী লাইজু জানান, ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমেরিকান প্রবাসী এক আত্নীয়কে অব্গত করেন। বিষয়টি জেনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ডায়ালাইসিস ইউনিটের বিকল মেশিনগুলো মেরামতের জন্য আর্থিক অনুদান দেন ওই প্রবাসী নারী। শনিবার মেশিন দুটির মেরামত কাজ শেষে সচল হলে আবারো ডায়ালাইসিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডায়ালাইসিসের অচলাবস্থার কথা স্বীকার করে মেশিন মেরামত করতে না পারার পেছনে লকডাউনকে দুষছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম। তিনি  বলেন, হাসপাতালের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সিটি স্ক্যান মেশিন হ্যান্ডওভার করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102