মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

দ্বিধা ভুলে বিনাপারিশ্রমিকে কবর খোঁড়েন তারা-গোর খোদকের খবর রাখে না কেউ

বর্ণালী জামান বর্ণা
  • সময় শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৫৩ বার পঠিত
Exif_JPEG_420

রংপুর বিভাগীয় শহর, এমনকি অনেক জেলা ও উপজেলা শহরের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গোরখোদকরা কবর খোঁড়ার কাজ করলেও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে পারিবারিক কবরস্থান ব্যতিত ৫টি বড় কবরস্থানসহ ছোট-বড় কবরস্থানে প্রায় শতাধিক গোরখোদক যুগের পর যুগ বিনা পারিশ্রমিকে কবর খোঁড়ার মহতি কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ কবর খোঁড়ার এই মহতি কাজের সাথে জড়িত গোরখোদকদের খবর রাখে না কেউ। সরেজমিন সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড ঘুরে গোরখোদকদের সাথে আলাপকালে শেষ ঠিকানা নির্মাণকারী গোরখোদকরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বললেও তাদের বেশিরভাগের কথা থেকে উঠে এসেছে কবর খোঁড়ার কাজটি তারা করছেন একান্তই নিঃস্বার্থভাবে। এ কাজ থেকে তারা অতীতেও কোন পারিশ্রমিক নেননি ভবিষ্যতেও পারিশ্রমিক পাবেন এমন আশাও তারা করেন না। গোরখোদক ও মুদি দোকানদার আবু শামা (৬২) তিনি ২৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কবর খোঁড়ার কাজ করেন মন্ডলপাড়া কবরস্থানে। তিনি ৫০ বছর ধরে নিজ আত্মীয়-স্বজনসহ অগণিত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। তাকে কবর খোঁড়ার সহযোগিতা করেন তার ছেলে রঙ মিস্ত্রি রফিকুল। এছাড়াও রাজু, মেরাজুল, আবুল ও তসলিম তাকে প্রায় সময় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করে আসছেন। অন্যদিকে বাদশা, খোরশেদ আলম, আব্দুস সাত্তার ও শাহ আলম ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও বিভিন্ন এলাকায় মৃতের খবর পেলেই ছুটে গিয়ে বিনাপারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিয়ে আসেন। কবর খোঁড়ার নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবু শামা দাবানলকে জানান, একটি কবর খুঁড়তে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। মৃতব্যক্তি পুরুষ হলে মাঝা পর্যন্ত এবং মহিলা হলে বুক পর্যন্ত খুঁড়তে হয়। পুরুষ ও মহিলার ক্ষেত্রে কবর খোঁড়া কেন কমবেশি করতে হয় তাও জানান তিনি। কবর খোঁড়ার জন্য শীত-গ্রীস্ম বর্ষা, দিন-রাত কোন নির্ধারিত সময় নেই। দিনের বেলায় মৃত ব্যক্তির কবরের জন্য বাঁশ কেটে খাবাসী ও রেলিং তৈরিতে অনেক ব্যক্তি সহযোগিতা করলেও রাতের বেলা গহীন গোরস্থানে ২ জন গোরখোদক ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। আবু শামা জানান, রাতে বেলা তিনি প্রায় সময়ে ছেলে রফিকুল ও রাজুকে নিয়ে কবর খোঁড়ার কাজ করে থাকেন। শুধু কবর খুঁড়েই শেষ নয়, অনেক সময় মৃতদেহের দাফন-কাফনসহ সমাহিত করার কাজও তাদের করতে হয়। এখানেই শেষ নয়, অনেক সময় শেয়ালের অত্যাচারে রাতভর কবর পাহারা দিতে হয়। এছাড়াও শনি ও মঙ্গলবার দুষ্টু লোকদের জন্য রাতভর জেগে জেগে কবর পাহারা দিতে হয় তাদের। একজন গোরখোদককে সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে কবর খোঁড়ার কাজ চালিয়ে যেতে হয় নির্দিধায়। প্রায় সময়ে নতুন কবর খোড়ার সময় মৃত ব্যক্তির কঙ্কাল উঠে আসে। রাতের বেলা কিছুটা ভয় সংকোচ হলেও কবর খোঁড়ার কাজ তাতে থেমে থাকে না। আবু শামা দাবানলকে বলেন, মন্ডলপাড়া গোরস্থানের খাদেম হিসেবে প্রতিমাসে আমাকে পাঁচশত টাকা দেয়া হয়। সেই পাঁচশত টাকা কবরস্থানে গাছ লাগানোসহ পরিচর্যার কাজে ব্যয় করি। কবর খোঁড়ার কাজে যদি কেউ খুশি হয়ে কোন টাকা দেয়, তা আমি আমার সাথে কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিদের দিয়ে দেই। সবাইকে একদিন মরতে হবে, আমারও কবর কাউকে একদিন খুঁরতে হবে। এটা অনেক মহত একটা কাজ। বাকি জীবনেও করে যাবো। গোরখোদকদের কাছে মৃতব্যক্তি জীবদ্দশায় কে কোন রাজনৈতিক দল করতো, কি করতো না করতো এটা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অনেক সময় বেওয়ারিশ লাশ নিজের অর্থায়নেও দাফন-কাফন করে কবর দেয় আবু শামারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102