মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

 ১ কেজি দুধ বেচে চলে সংসার : সরকারি বরাদ্দের ১০ টাকা  চালের কার্ড ভাগ্যে জুটেনি আসির-জুলেখা দম্পতির

বাবুল হোসেন ,পঞ্চগড় অফিস
  • সময় সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৩৩ বার পঠিত
এক কেজি দুধ বেচে সংসার চলে আসির-জুলেখা দম্পতির স্বামী আসির উদ্দীন ও স্ত্রী জুলেখা বেগম।
 শতবর্ষী স্বামী আসির উদ্দীনকে নিয়ে বসবাস জুলেখা বেগমের (৬২)। শ্বশুরবাড়ি না থাকায় বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে বাবার ভিটেতে ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেন জুলেখা।
তাদের সংসারে জন্ম হয় এক কন্যা সন্তানের। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন সাবালিকা হওয়ার পরেই।
এদিকে প্রায় ৫০ বছর ধরে বাবার ভিটেতে কোনো মতে স্বামীকে নিয়ে দিন অতিবাহিত করলেও বর্তমানে বয়সের ভারে থমকে গেছে তাদের জীবনযাপন। উপার্জন করার মতো কেউ না থাকায় জীবনধারণ করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে জুলেখা আসির দম্পতির।
পালন করা একটি গাভীর  এক কেজি দুধ বিক্রি করে সেই টাকায় দিন অতিবাহিত করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
অপরদিকে জুলেখা নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও আরো বিপাকে পড়েছেন শতবর্ষী এক পা অচল স্বামীকে নিয়ে।
জুলেখা আসির দম্পতির অভিযোগ একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সরকারিভাবে থাকার জন্য একটি ঘর বরাদ্দ তো দূরে থাক ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি চালও পাননি তারা।
জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে এনজিও ব্র্যাক থেকে সহায়তা হিসেবে একটি গাভী পেয়েছিলেন এই দম্পতি। গাভীটি লালন-পালন করে সেই গাভীর দুধ বিক্রি করে তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন। কখনো এক পোয়া, কখনো হাফ কেজি আবার কখনো এক কেজি দুধ পান গাভীটি থেকে।
এদিকে গরুর দুধ না হলে পালিত মুরগির কয়েকটি ডিম বিক্রি করে কোনো মতে খাবার জোগার করেন তারা। তবে মাঝে মধ্যে মেয়েজামাই কিছুটা সহায়তা করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের দিঘলগাঁও (শিপাইপাড়া) গ্রামে ওই দম্পতির বাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি টিনের চালার ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরের বেড়ায় অনেক ফুটো, একদিক দিয়ে কোনো মতে পলিথিন দিয়ে ফুটো বন্ধ করে বসবাস করেন তারা। এমনকি বাড়িতে নেই তেমন স্যানিটেশন ব্যবস্থা। কাপড় দিয়ে ঢাকা ল্যাট্রিন ব্যবহার করছেন তারা। অপরদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে না পারায় রাতে কুপি বাতি ব্যবহার করতে হয়।
জুলেখা বেগম  বলেন, বিয়ের পর বাবার ভিটার এক পাশে স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে আসছি। বর্তমানে স্বামী বয়সের ভারে পুরোই অচল। কোনো কাজ কর্ম করতে পারেন না। এদিকে আমিও শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তেমন কোনো কাজ করতে পারছিনা। ছেলে সন্তান না থাকায় একটি মাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আমরা দুজনে বাবার ভিটাতেই আছি। একটি ঘরের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান ও মেম্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো খবর নেয়নি তারা। একসময় মুড়ি ভেজে বাড়িতে বিক্রি করলেও বর্তমানে চোখে তেমন দেখতে না পাওয়ায় মুড়ি ভাজাও বন্ধ করে দিয়েছি। এখন গরুর দুধ বিক্রি করে দিন অতিবাহিত করছি। মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্নভাবে গরিবদের সহায়তা করছেন, যদি তিনি শেষ বয়সে আমাদের সরকারিভাবে একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করেন তা হলে শেষ সময়টুকু একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবো।
শতবর্ষী শারীরিক প্রতিবন্ধী আসির উদ্দীন  বলেন, সুস্থ জীবনে পাথর উত্তোলনসহ কামলার পাশাপাশি মানুষের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবন অতিবাহিত করেছি। বর্তমানে বৃদ্ধ এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় কিছু করতে পারছিনা। যেটুকু করার আমার স্ত্রী (জুলেখা) করে থাকেন। মাঝে মধ্যে গরুর দুধ দোয়াতে স্ত্রীকে সহায়তা করি এই যা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা  বলেন, আসির উদ্দীন শতবর্ষী হলে তাকে ভাতা দেওয়া হবে। আমরা সরেজমিনে দেখে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102