মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

নগরীতে পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে

বর্ণালী জামান বর্ণা
  • সময় মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৫৭ বার পঠিত

রংপুর নগরীতে দিন দিন বাড়ছে বায়োগ্যাসের ব্যবহার। বাসা বাড়ি থেকে খামার সবখানেই চাহিদা বেড়েছে এই গ্যাসের। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়াতে এলপি গ্যাসের পাশাপাশি বায়োগ্যাসে ঝুঁকছেন অনেকেই। রংপুর নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমনটাই জানা গেছে। নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়ায় এসআর দুগ্ধ খামারে বায়োগ্যাস ব্যবহার করতে দেখা যায়। সেখান থেকে আশপাশের বেশকিছু পরিবারও সেই গ্যাসের সুবিধা নিচ্ছেন। এতে করে ওই এলাকাতে বেড়েছে বায়োগ্যাস ব্যাবহারকারীর সংখ্যা। এসআর দুগ্ধ খামারের পরিচালক আশফাতুর রহমান নিজ উদ্যোগে তার খামারে তৈরি করেছে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। খামারের ভিতরে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, খামারে ৪৮টি গরুর গোবর রাখার মতো জায়গা নেই। তাই ২০১৬ সালে পরিবেশ দূষণ রোধে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করেন। তার ছোটভাই প্রকৌশলী তাইফুর রহমান এ কাজে সহযোগিতা করেন। ছোটভাইয়ের পরামর্শ আর পরিকল্পনায় ১৫ ফিট গভীরতায় এই প্ল্যান্টটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপন্ন হওয়ার পর উচ্ছিষ্ট গোবরগুলো রি-ওয়ারিং মেশিনের মাধ্যমে শুকিয়ে জৈব সারে পরিণত করা হয়। পরে প্রতি কেজি গোবর ১০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে করে গরুর গোবর নষ্ট হচ্ছে না। বরং একই গোবর দুইবার ব্যবহার করছি। আশফাতুর রহমান জানান, তার নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে এই গ্যাস আশেপাশের ১০টি পরিবারে সরবরাহ করছেন। প্রতি বাড়ি থেকে গ্যাস সরবরাহের জন্য মাসে ৯০০ টাকা পেয়ে থাকেন। গ্রীষ্মকালে ২৪ ঘণ্টা বায়োগ্যাসের সুবিধা মিললেও শীতকালে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ব্যবহার করা যায়। এই উৎপাদনে দিনে তিনবার গোবর প্রয়োগ করতে হয়। আরও বেশ কয়েকটি পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব বলেও তিনি জানান। একই এলাকার টাওয়ার সংলগ্ন রোডের বাসিন্দা শাহাদৎ হোসেন। তিনিও নিজ বাড়িতে তৈরি করেছেন গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। তার মতে, এই গ্যাস ব্যবহার ঝুঁকিমুক্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। প্রতিদিন কর্মস্থল থেকে ফিরে নিজেই গ্যাস প্ল্যান্টের দেখভাল করেন। শাহাদৎ হোসেন বলেন, বায়োগ্যাস সাশ্রয়ী। এর সুবিধাও অনেক। রান্নাবান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহার করি। পাশাপাশি ব্যবহৃত গোবর জমিতে সার হিসেবে কৃষকেরা সংগ্রহ করেন। ২০১৫ সালে ২১ হাজার টাকা ব্যয় করে নিজ উদ্যোগে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করেছেন। এতে সময় লেগেছে সাতদিন। তার গ্যাস প্ল্যান্টের গভীরতা ৬ ফিট। তিন-চার দিন পর পর গোবর প্রয়োগ করে গ্যাস উৎপাদন করা যায়। ২৪ ঘণ্টা সেই গ্যাস জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন তিনি। শাহাদৎ হোসেনের প্রতিবেশি সবর আলীও এই গ্যাস ব্যবহার করছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব ও রান্নার কাজে বেশ সুবিধা রয়েছে। এজন্য ২০১৩ সালে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করেছেন। তার বাড়িতে ১৫টি গরু রয়েছে। বাড়িতে এতগুলো গরুর গোবর রাখার জায়গা সংকট ছিল। তাছাড়া গোবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে প্রায়ই পাড়া প্রতিবেশিদের সাথে ঝগড়া সৃষ্টি হতো। কিন্তু এখন আর সেই সমস্যা নেই। সবর আলীর বাড়ির বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটির গভীরতা ১০ ফিট। প্রতিদিন একবার গোবর প্রয়োগ করলে ২৪ ঘণ্টা রান্নাবান্না সুবিধা পাওয়া যায়। কম সময়ে কালি ও ধোয়া ছাড়া রান্নার কাজ হয়। ব্যবহারের পর উচ্ছিষ্ট গোবর আবাদি জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বায়োগ্যাস ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবন আরামদায়ক হয়ে উঠেছে। তাছাড়া প্রতিমাসে যেখানে জ্বালানি খরচ দুই হাজার টাকা লাগত, এখন তা আর লাগছে না। এদিকে নগরীর মন্ডলপাড়া যোদ্দারপাড়া, আলমনগর, নজিরেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গরুর খামারীদের অনেকেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবহার করছেন। এই গ্যাস সহজ লভ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হওয়াতে এর চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করছেন খামারীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102