মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৬:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত উত্তরবঙ্গের গাছিরা

আরিফ শেখ, তারাগঞ্জ (রংপুর)
  • সময় সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১১০ বার পঠিত

রাস্তার পাশের বাড়িটির চারদিকে খেজুর গাছের সারি। গাছে গাছে ঝুলছে ‘রসের হাঁড়ি’। মহুবার গাছি হাঁড়ি নামিয়ে আনতেই গাছের নিচেই বিশাল জটলা মানুষের । কেউ সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে, আবার কেউ সেখানে বসেই গ্লাসে করে পান করছে।

রীতিমতো যেন রস কেনাবেচার হাট বসেছে। কাকডাকা ভোরে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের ফরিদাবাদে।
বছরজুড়ে অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের হঠাৎ কদর বেড়ে যায় শীতকালে । রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় উত্তরবঙ্গের গাছিরা এখন নেমে পরেছে প্রায় এক যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। অগ্রহায়ন মাস থেকেই রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। শীত যত বেশি পড়বে তত বেশি রস ঝরবে। রসের স্বাদও ততই মিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভরা মৌসুম।

গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধু বৃক্ষ এই খেজুর গাছ। গাছি গাছ কাটতে ব্যবহার করেন বিশেষ এক ধরণের লোহা দিয়ে তৈরী দা, দড়ি, আবার দা রাখার জন্য এক প্রকার থলি। প্রথমেই খেজুর গাছ কেটে পরিষ্কার করেন তারা। গাছের ডগা চেছে বাঁশের খিল লাগানো হয়। এরপর শুরু হয় রস সংগ্রহ। চিরাচরিত পদ্ধতিতেই মাটির ভাঁড়ে (কলসি) রাতভর রস সংগ্রহ করা হয়। সূর্য ওঠার আগেই তা আবার গাছ থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে এই রস মাটির হাঁড়িতে কিংবা টিনের তৈরি কড়াইয়ে জ্বালিয়ে বানানো হয় সু-স্বাদু পিঠা, পায়েস আর পুলিসহ নানান রকমের পিঠা ও গুড়-পাটালি।

মহুবার গাছি জানায় , এই গ্রামের খেজুর রস ও পিঠার সুনাম রয়েছে। কিন্তু দিনে দিনে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছ নির্বিচারে কেটে ফেলায়। আগে বাড়িতে-বাড়িতে জামাই, মেয়ে, নাতি-নাতনীদের নিয়ে চলতো শীত উৎসব। তৈরি করা হতো নানান প্রকারের পিঠা। কিন্তু সেসব এখন অনেকটাই স্মৃতি।

উপজেলার জয়বাংলা, নারায়ঞ্জন , আসামিগঞ্জ , হাতিবান্ধা, শেরমস্ত, লক্ষিপুর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় খেজুরের গাছ পরিচর্যা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার গাছিরা তাদের তৈরি গুড়, রস ও পিঠা উপজেলার তারাগঞ্জ হাট, সহ আশেপাশের হাটগুলোতে বিক্রি করছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খেজুর গাছের পরিকল্পিত আবাদ আর নেই। খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস, গুড় আহরণে কেবল আমাদের রসনা তৃপ্তির জন্য নয়, আমাদের পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির ভারসাম্য সুরক্ষায় খেজুর গাছের আবাদ স¤প্রসারণ জরুরি। উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে ৫ হাজার ৯৫০টি। এতে খেজুর গুড় উৎপাদন হয় ৭০ মেট্রিক টন।


তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাচ্ছুম বলেন, উপজেলায় এখনো বেশকিছু খেজুরগাছ রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছিরা গাছ প্রস্তুত করা শুরু করেছেন। খেজুরের গাছ ও গাছির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগের মতো খেজুর গাছও নেই, নেই দক্ষ গাছি কিংবা গুড়-পাটালি তৈরির কারিগর। অন্যান্য গাছের মতো খেজুরগাছ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। খেজুর গুড় শিশুর মেধা বিকাশে সহায়তা করে। খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা থেকে গুড় তৈরি পর্যন্ত একটি শিল্প। যা আজ বিলুপ্তির পথে।

রংপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সরওয়ারুল হক জানান, আমরা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগ থেকে জেলার বিভিন্ন সড়কের দুই ধার দিয়ে খেজুরগাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। খেজুরগাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। যা সকলের রস ও গুড়ের চাহিদা মেটাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102