মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৬:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজকের পত্রিকা -০৪-০৬-২০২২ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি, উদ্দেশ্য পদ পদবী বাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা  সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে নিরাপত্তা কর্মীর উপর যুবলীগ নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সৈয়দপুরের কল্যান ট্রাষ্টের নামে লন্ডাবাজার অবৈধ রেল মার্কেটের কোটি কোটি টাকা লুটপাঠ সৈয়দপুর রেল কারখানার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত সরকারী শিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট স্কুল দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা হাতিয়ে নিয়েছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ সৈয়দপুর পৌর আ’লীগের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত পাননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুরে আসামীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে রেল কর্তৃপক্ষের মামলা সৈয়দপুর বিমানবন্দর রোডে ৫৪৪নং রেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ, নির্বিকার রেল প্রশাসন

সনদ সত্যায়ন ভোগান্তিতে রংপুরের হাজারো চাকরিপ্রার্থী

দাবানল প্রতিবেদক
  • সময় বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৭৯ বার পঠিত

রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আয়েশা সিদ্দিকা রুকু (ছন্ন নাম) স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। চাকরি খুঁজছেন সরকারি-বেসরকারি যে কোনো ভালো চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই আবেদন করেন তিনি। তবে আবেদন করতে কাল হয়ে দাড়ায় সনদ সত্যায়িতকরণ।
তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির কোনও সরকারি কর্মকর্তা আমায় ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। ফলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আমার ছবি বা কাগজপত্র সত্যায়িত করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় । অনেক অনুরোধ করার পর কেউ কেউ সত্যায়িত করে দেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা বিরক্তি প্রকাশ করে অপমানজনক কথা শুনিয়ে দেন।

রুকু তাদের এ আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অবশেষে নিজেরটা নিজেই সত্যায়ন করেন। চাকরি বা যে কোনো আবেদনপত্রে সত্যায়িত চাওয়া হয়। কারণ আবেদনপত্রে দাখিল করা ডকুমেন্ট সত্যি কিনা অথবা আসল ডকুমেন্টের অনুলিপি কিনা, সেটা একজন সাইন করে সাক্ষ্য দেবেন। সাক্ষী এমন ব্যক্তি হবেন যার সাক্ষ্য বিশ্বাস করার যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। এক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা এক্ষেত্রে অষ্টম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব, বিশেষ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য, মেয়র বা স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান, সরকারি অধ্যক্ষ, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সত্যায়নের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

রংপুরে হাজারো চাকরি প্রার্থী রয়েছে যারা প্রতিদিন চাকরির আবেদন করার জন্য ছবি ও কাগজপত্র সত্যায়িত করতে ছুটেন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের পেছনে। শিকার হন সীমাহীন দুর্ভোগের। শুধু চাকরিই নয়, শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় সব নাগরিককে লেখাপড়া, পাসপোর্ট আবেদন, বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সত্যায়িত করতে হয়।

প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার কাছে সত্যায়িত করতে গেলে ওই কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করতে পারাটা রীতিমতো ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে হয়। এ সময় সরকারি ওই কর্মকর্তার কটু কথা বা বাজে আচরণও হজম করতে হয়। এসব ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে অনেকেই ভুয়া সত্যায়িত সিলমোহর বানিয়ে জাল সই দিয়ে নিজের সত্যায়িত নিজেই করেন। ভুয়া সত্যায়ন ও সই জাল করার বিষয়ে এক চাকরি প্রত্যাশী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে আবেদনের জন্য ছবি ও কাগজপত্র সত্যায়িত করতে গিয়ে একটি কলেজের শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। আমাকে কেউ চেনেন না বলে সত্যায়িত করাতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে একটি ভুয়া সিল বানিয়েছি।

তিনি জানান, রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর, লালবাগ, পার্কের মোড়, দর্শনা, মেডিকেল মোড়ের যে কোন সিলপ্যাড তৈরির দোকানে এসব ভুয়া সিল ৩০/৫০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গেজেটেড কর্মকর্তা জানান, অপরিচিত কারও ছবি বা কাগজপত্র সত্যায়িত করার নিয়ম নেই। এ ক্ষেত্রে মূল কাগজপত্র উপস্থাপন করলেও ওই ব্যক্তি সম্পর্কে ভালভাবে অবগত না হয়ে সত্যায়িত করাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ওই ব্যক্তি যদি সত্যায়িত করা কাগজপত্র নিয়ে কোন রকম জালিয়াতির আশ্রয় নেন এবং তা নিয়ে যদি বড় ধরনের কোন বিপত্তির সৃষ্টি হয় তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণই এসে পড়বে আমাদের (সংশ্লিষ্ট ক্যাডার) ওপর। তাই ঝামেলা এড়াতে সত্যায়িত এর ব্যাপারে আমরা একটু সচেতন থাকি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
 

দৈনিক দাবানল © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

themesba-lates1749691102